Saturday, May 25, 2024

সুরায় ইখলাস বাংলা উচ্চারণ সহ সারমর্ম জেনে নিন।



সুরায় ইখলাস

স্রষ্টার একত্ববাদের ঘোষণা বা একনিষ্ঠতা (Arabic: الْإِخْلَاص, আল-ইখলাস ) বা একত্ববাদ (আরবি: التوحيد, আত-তাওহীদ),যা সাধারণত সূরা আল-ইখলাস নামে পরিচিত, হলো কুরআনের ১১২ তম অধ্যায় (সূরা)।

কুরআন এর এই (সূরা)টি মুসলমাগণ বিশেষভাবে অনুশীলন করেন, এবং ইসলাম এর দ্বিতীয় উৎস (হাদিস) সূরাটিকে পুরো কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান বলে ঘোষণা করে। বলা হয় যে, সূরা ইখলাস (নবুয়ত লাভের পর) মুহাম্মাদ ও কুরাইশ পৌত্তলিকদের দ্বন্দ্ব চলাকালীন মুহাম্মাদ (সল্লল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে আল্লাহর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে চ্যালেঞ্জের জবাব দিয়েছিল।[৪]

আল-ইখলাস কেবল এই সূরার নামই নয়, এর বিষয়বস্তুর শিরোনামও, কারণ এটি একমাত্র তাওহীদের সাথে সম্পর্কিত। সাধারনত কুরআনের অন্যান্য সূরাগুলো তদ্বীয় একটি শব্দের নামে নামকরণ করা হয়েছে। তবে এই সূরাতে ইখলাস শব্দটি কোথাও পাওয়া যায় না। অর্থাৎ, এর অর্থ এবং বিষয় বিবেচনায় রেখে এ নাম দেওয়া হয়েছে।

সার সংক্ষেপ

1-4 স্রষ্টার একত্ববাদের ঘোষণা ও স্রষ্টার নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রকাশ। 

মুসলমানগণ সওয়াব এর কাজ হিসেবে কুরআন সম্পূর্ণভাবে বা এর অংশবিশেষ আবৃত্তি এবং মুখস্থ করে থাকেন। শুদ্ধভাবে (তাজবিদ অনুসারে) কুরআন পাঠ করাকে একটি অতুলনীয় ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়।


অবতরণের পটভূমি

মুশরিকরা হযরত মুহাম্মদ (স:) - কে আল্লাহ্‌ তা'আলার বংশ পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল , যার জওয়াবে এই সূরা নাযিল হয়। অন্য এক বিবরণে আছে যে , মদীনার ইহুদিরা এ প্রশ্ন করেছিল। আবার কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে যে , তারা আরও প্রশ্ন করেছিল- "আল্লাহ্‌ তা'আলা কিসের তৈরি ? স্বর্ণ-রৌপ্য নাকি অন্য কিছুর?" এর জওয়াবে সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে ৷[৮][৯]


পাণ্ডলিপি ও অনুবাদ

সূরা আল-ইখলাস

আবু আমর হাফস ইবনে সুলাইমান ইবনে আল মুগিরাহ ইবনে আবি দাউদ আল আসাদি আল কুফি (হাফস) প্রদত্ত আঞ্চলিক রীতিতে আল-ইখলাসের পাঠ:


بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ‎

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ۝‎

১. কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ

অর্থঃ বলুন ( হে নবি ), তিনি আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় ,


ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ۝‎

২. আল্লাহুস সামাদ

অর্থঃ তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন ,


لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۝‎

৩. লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ

অর্থঃ তিনি কাউকে জন্ম দেননি ; কেউ তাঁকে জন্ম দেননি ,


وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ۝‎

৪.ওয়ালাম ইয়াকুল লাহু কুফুওয়ান আহাদ

অর্থঃ আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই ।



ব্যাখ্যা

মূল নিবন্ধসমূহ: শিরক ও ইসলামের দৃষ্টিতে একত্ত্ববাদ

ইসলামের প্রারম্ভিক বছরগুলোতে কুরআনের কিছু সূরা বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল, কখনও কখনও অঞ্চল অনুসারে বিভিন্ন সূরা বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। এই সূরাটি সেগুলোর মধ্যে একটি। সূরাটি তাওহীদের একটি সংক্ষিপ্ত ঘোষণা, আল্লাহর একত্ববাদ সমন্বিত চারটি আয়াত। আল-ইখলাস অর্থ "বিশুদ্ধতা" বা "একনিষ্ঠতা"।


এটি মক্কায় নাকি মদিনায় অবতীর্ণ তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।তবে সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হওয়ার তথ্যই সম্ভাব্য এবং যুক্তিযুক্ত, বিশেষত যেহেতু এটি আবিসিনিয়ার বিলাল দ্বারা প্রমাণিত হয়, যিনি তাঁর নিষ্ঠুর কর্তা দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছিলেন এবং "আহাদ, আহাদ!" [(আল্লাহ) একক, একক!] বারবার বলছিলেন। উবাই ইবনে কা’ব হতে বর্ণিত যে, সূরাটি অবতীর্ণ হয় মুশরিকদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে: "হে মুহাম্মাদ! তোমার প্রতিপালকের বংশপরিচয় আমাদেরকে বল।"


কুরআন ১১২:১-২ স্রষ্টার একত্ববাদ

সূরা আল ইখলাসে চারটি আয়াত রয়েছে:

১১২:১. বলুন: তিনি আল্লাহ, (যিনি) একক। 

১১২:২. আল্লাহ আস-সামাদ (অমুখাপেক্ষী)। 

১১২:৩. না তিনি কাউকে জন্ম দিয়েছেন, না তিনি জন্ম নিয়েছেন। 

১১২:৪. এবং কেউই তার সমতুল্য নয়।


এ বিষয়ে "তাফসির ইবনে কাসির" এ বলা হয়েছে,

যখন ইহুদিরা বলে, ‘আমরা আল্লাহর পুত্র উযায়েরকে উপাসনা করি’ এবং খ্রিস্টানরা বলে, ‘আমরা আল্লাহর পুত্র মাসীহ (ঈসা) এর উপাসনা করি’ এবং জুরোস্ত্রীরা বলে, ‘আমরা সূর্য ও চাঁদের উপাসনা করি’ এবং মুশরিকরা বলে ‘আমরা মূর্তিপূজা করি,' আল্লাহ তার রাসূলের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন, "বলুনঃ তিনিই আল্লাহ এক। তিনিই এক, একক, তার কোন সমকক্ষ নেই, কোন সহকারী নেই, প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, সমান এবং তার তুলনাও নেই।"


এই শব্দটি (আল-আহাদ) পরাক্রমশালী আল্লাহ ছাড়া আর কারও পক্ষে ব্যবহার করা যাবে না, কারণ তিনি (আল্লাহ) তার সমস্ত গুণাবলীতে ও কর্মে নিখুঁত।



শেয়ার করুন

Author:

আসসালামু আলাইকুম, আমি মোঃ রহমাতুল্লাহ, ইসলামিক বিষয়াবলী পড়তে ও লিখতে পছন্দ করি। আমার প্রতিটি লেখা কোরআন হাদিসের আলোকে হয়ে থাকে।

0 coment rios: